Advertisement

Wednesday, March 23, 2016

12:10 PM


বেঙ্গালুরুতে হৃদয় ভাংলো টাইগারদের। হাতের মুঠো গলে বের হয়ে গেলো ম্যাচ। ভারতকে হারানো হলো না। মাহমুদ উল্লাহ ও মুশফিকুর রহিম শেষ ওভারে বড় শট খেলতে গিয়ে সর্বনাশটা করলেন। অথচ উইকেটে টিকে থাকলেই জয় ধরা দিতো, এমনটাই ছিল পরিস্থিতি। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের অন্যতম সেরা নাটকীয়, রোমাঞ্চকর, শাসরুদ্ধকর ম্যাচটা ভারত জিতে নিলো ১ রানে।শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ১১ রান। এমএস ধোনি এই ওভারটা হার্দিক পান্ডিয়ার জন্য রেখে ভুল করেছিলেন বলেই মত তখন। প্রথম ৩ বলেই বাংলাদেশের প্রায় মুঠিতে ম্যাচ। প্রথম বলে মাহমুদ উল্লাহ ১ রান নিলেন। পরের বলে মুশফিকের বাউন্ডারি! পরের বলে স্কুপ করে আবার চার মুশফিকের! ৩ বলে ২ রান! কিন্তু এই তিন বলে ৩ উইকেট হারিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে হেরে গেলো বাংলাদেশ! মুশফিক (১১) ক্যাচ দিলেন! মাহমুদ উল্লাহ স্ট্রাইক নিয়েছেন। ২ বলে ২ রান দরকার। মাহমুদ উল্লাহও (১৮) তুলে মেরে আউট! ভুলের পর ভুল! দুজনই উইনিং শটের নেশায় তীরে এসে তরী ডুবিয়ে গেলেন। ভারত তখনই জয়ের উৎসবে মাতলো। যদিও বাংলাদেশের শেষ বলে ২ রান দরকার। শেষ বলে শুভাগতর ব্যাটে বলে হলো না। তবু ছুটলেন তিনি। টাই হলেই সুপার ওভার। ধোনি বল নিয়ে স্টাম্পের দিকে ছুটছেন। মুস্তাফিজ অন্য প্রান্তে ছুটছেন। ধোনি আগে পৌঁছলেন। আউট মুস্তাফিজ। ১ রানে হার বাংলাদেশের। স্নায়ুর ওপর চাপটা শেষ পর্যন্ত রাখতে না পেরে ঐতিহাসিক এক জয়ের বদলে বুক ভাঙা এক হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো টাইগাররা। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা থেকে মুক্তি পেলো ভারত।দারুণ বোলিং-ফিল্ডিংয়ে ভারতকে ৭ উইকেটে ১৪৬ রানে আটকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এদিন টাইগারদের শরীরী ভাষায় ছিল আক্রমণ। মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে দলটা জেগে উঠেছিল। পুরো ম্যাচেই জয়ের ধারায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৫ রানে খেলা শেষ করলো তারা।তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমান ও সাকিব আল হাসান জয়ের পথেই রেখেছিলেন দলকে। সৌম্য সরকারের জায়গায়ে ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গী হলেন মোহাম্মদ মিথুন। কিন্তু ১ রান করেই রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে উইকেট দিয়ে এসেছেন এই ওপেনার। তামিমের এদিন ভাগ্য ভালো। ৬ রানে আশিস নেহরা ও ১৫ রানে জসপ্রিত বুমরাহ ক্যাচ ছাড়লেন। তামিমও নতুন জীবনের ফায়দা নিলেন। ষষ্ঠ ওভারে বুমরাহকে ৪টি বাউন্ডারি মেরে দিলেন। কিন্তু ৩২ বলে ৩৫ রান করে থামতে হলো তাকে। রবিন্দ্র জাদেজাকে নেমে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার তিনি। ৫৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারালো বাংলাদেশ। তামিম আউট হলেও ভালো একটা শুরু দিয়ে গেছেন। সাব্বির রহমানের সাথে তার জুটি ৪৪ রানের।৯ ওভারে ২ উইকেটে ৬৭ রান। পরের ৪ ওভারে ২৬ রানে ৩টি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লো বাংলাদেশ। তবে ম্যাচ তখনো নিয়ন্ত্রণে। ১৫ বলে ২৬ রান করে ফিরেছেন সাব্বির। মাশরাফি ৫ নম্বরে নেমে এক ছক্কায় ৬ রান করে ফিরেছেন। আর সাকিব দারুণ দুটি ছক্কা মারার পর ১৫ বলে ২২ রান করে আউট। ৫ উইকেটে ৯৫। জিততে টাইগারদের ৪৭ বলে আর ৫২ রান দরকার। মাহমুদ উল্লাহর ব্যাটের দিকে তাকিয়ে সবাই। সৌম্য যোগ হলেন তার সাথে। জাদেজাকে মারা সৌম্যের ছক্কা সাহস দিলো। মাঠে রুদ্ধশ্বাস অবস্থা।দারুণ বোলিংয়ে ভারত হিসেবটা ১৮ বলে ২৭ হতে বাধ্য করলো। কিন্তু ১৮তম ওভারে নেহরাকে বাউন্ডারি মারা সৌম্য ছক্কা মারতে গিয়ে আউট! ২১ বলে ২১ রান করে গেলেন সৌম্য। মুশফিক-মাহমুদ উল্লাহ জুটির হাতেই তখন বাংলাদেশের ভাগ্য। শেষ বলে মাহমুদ উল্লাহর চার। এই ওভারে ১০। শেষ ১২ বলে ১৭ রান দরকার টাইগারদের। বুমরাহর ৬ বলে ৬ রান। শেষ ওভারে জয়ের হিসেবটা আর মেলানো হলো না বাংলাদেশের। এত কাছে এসেও হেরে যাওয়ার কষ্ট কাঁদিয়ে ছাড়লো টাইগার ভক্তদের।












0 comments:

Post a Comment