নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বড় পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ!
ভারতের বিপক্ষে আলোচিত সেই ম্যাচের পরাজয় মেনে নেয়ার মতো না- সেটা মানেন মাশরাফিও। কিন্তু এর জন্য কাকে দোষারোপ করবেন? যারা দলে খেলেন, তারা সবাই জিততে মরিয়া। স্বাভাবিক চিন্তাধারায় হারের জন্য খেলেন-
এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশের ওই ম্যাচেও কেউ খেলেনি হারের জন্য, অধিনায়ক না হলেও মাশরাফি এটাই বলবেন। তবে একটি হারেই যে সব শেষ হয়ে গেছে তা কিন্তু নয়।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বললেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ‘এক ম্যাচে হেরে গেছি তাই বলে সব শেষ হয়ে যায়নি। বরং ওই ম্যাচে প্রাপ্তিও রয়েছে, যা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে জয় পেলে সেমিফাইনালে ওঠার ক্ষাণিকটা সম্ভাবনা থাকত।
সে ক্ষেত্রে আজকের ম্যাচের গুরুত্ব থাকত অপরিসীম। কিন্তু ওই হারে সেটা আর নেই। বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষের ম্যাচ এখন নিয়ম রক্ষায় দাঁড়িয়েছে। এটা অবশ্য আইসিসি বা ক্রিকেটীয় হিসাব। কিন্তু বাংলাদেশের কাছে কি আসলেই নিয়ম রক্ষার ম্যাচ। মোটেও না। মূল পর্বে টানা হার যাদের, তাদের অন্তত একটা জয় না হলে সম্মানও রক্ষা হয় না। ফলে অন্তত এ ম্যাচের জয় বড্ড প্রয়োজন টিম বাংলাদেশের। একটা সুবিধা হলো নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যে উঠে গেছে সেমিফাইনালে। ফলে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে খেলবে তারা এ ম্যাচ, মনে হয় না। কারণ এখন প্রস্তুতি তাদের সেমিফাইনালের। সেখানে প্রতিপক্ষকে মোকাবেলার জন্য যদি পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয় বরং সেটাই করবেন তারা। নিউজিল্যান্ড তিন ম্যাচে টানা জয় নিয়ে তথা অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তানকে হারিয়েই ৬ পয়েন্ট নিয়ে উঠে গেছে সেমিতে। আজ হারলেও ক্ষতি নেই তাদের। তবে এগুলো ভেবেও লাভ নেই মাশরাফিদের।
একটা জয় অনেক কিছু। বরং সেটা পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে লড়বে তারা এটাই স্বাভাবিক। বিশ্বকাপের মূল পর্বে এখন পর্যন্ত যে দু’টি দল জয়ের মুখ দেখেনি তারা হলো আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ। আফগানদের না জেতার যুক্তি থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ? আগের বিশ্বকাপেও মূল পর্বে জয়শূন্য ছিল দলটি। ফলে এটা একটা চ্যালেঞ্জও হয়ে গেছে টিম বাংলাদেশের। ভারতের বিপক্ষে শেষ বলে নির্ধারিত হওয়া ম্যাচ প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন,‘ওই ম্যাচে যা হয়েছে, আশা করি এমন লড়াইয়ের মনোবলের কারণে আমাদের জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। জিততে পারলে আমাদের ভালো হতো এটা ঠিক। তবে হারের ফলে মনোবল ভেঙে তো আর বসে থাকলে চলবে না।’
এ দিকে ভারতীয় গণমাধ্যম এবং কিছু অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে চলা লোক প্রায়ই মাশরাফিকে অধিনায়ক থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে, যেখানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড মনে করে মাশরাফির পারফরম্যান্স নয়, মাঠে উপস্থিতিটাই প্রয়োজন। সেটা পাশ কাটিয়ে বারবার মাশরাফির ক্যাপ্টেনসির ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছাড়া আর কিছুই না। কারণ বাংলাদেশের বর্তমান উজ্জীবিত পারফরম্যান্সের মূলে মাশরাফির দুর্দান্ত ক্যাপ্টেনসি। প্রতিটা ম্যাচেই তার অসাধারণ দল পরিচালনা ও ক্রিকেটারদের একীভূত রেখে এগিয়ে যাওয়ার কাজ আর কারো পক্ষেই সম্ভব না। ভারতীয় মিডিয়ার দীর্ঘদিনের চেষ্টা মাশরাফিকে যাতে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সুনীল মনহর গাভাস্কার এ বিষয়টি নিয়ে সরব ছিলেন।
আর মিডিয়া তো লেগেই রয়েছে সেই অস্ট্রেলিয়া- নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ থেকেই। কালও ওঠে ওই প্রশ্ন। এবার মাশরাফি নিজেই উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অবসরের বিষয় বাসায় (দেশে) ফিরে ভাবব।
এখন নয়। এখন সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আমার ওপর ওটার জন্য যে দায়িত্ব দেয়া সেটাই পালন নিয়েই এখন বেশি ব্যস্ত।’
গাপটিল, রস টেইলরদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ, কিন্তু জয় নেই। আজ সে কাক্সিত জয় পাওয়াও চ্যালেঞ্জের একটা ব্যাপার। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হবে খেলাটি।

0 comments:
Post a Comment